ব্যাংক খাতে সরকারের হস্তক্ষেপে সংকট বাড়ছে: জামায়াত
প্রকাশিত: ১০:৩৫:০০ পূর্বাহ্ণ, ২৪ মে, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
লাস্টনিউজবিডি ২৩ মে: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এ পরিস্থিতির জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ ও অযোগ্য ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন তিনি।
শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ব্যাংকিং খাত হলেও সরকার ব্যাংকব্যবস্থা পুনর্গঠনের বদলে “নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে” ব্যস্ত রয়েছে।
গোলাম পরওয়ারের দাবি, ফ্যাসিস্ট আমলে লুটপাটের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকগুলো এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে রেজুলেশন আইনের আওতায় এনে একীভূত করা হলেও গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি অনেক ব্যাংক ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং তারল্য সংকটে ভুগছে।
তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকায় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ইসলামী ধারার পাঁচটি ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমও “গভর্নরের অযোগ্যতা ও সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপে” ব্যর্থতার মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরেও “ষড়যন্ত্র” চলছে দাবি করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ব্যাংকটির বৈধ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) জোর করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকের এমডি অপসারণে সরকারি হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান।
তার ভাষ্য, অযোগ্য ব্যক্তিদের পরিচালনা পর্ষদে বসিয়ে সফল একটি ব্যাংককে অকার্যকর করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যার ফলে বিনিয়োগে স্থবিরতা ও গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এতে কোটি কোটি আমানতকারী এবং বিপুল সংখ্যক উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী ঝুঁকির মুখে পড়বেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের রেমিট্যান্স আহরণ, বৈদেশিক বাণিজ্য ও শিল্প-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ব্যাংক ঝুঁকিতে পড়লে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করেন। তার দাবি, সরকার দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে একজন “মধ্যমসারীর ব্যবসায়ীকে” গভর্নর করেছে, যার বিশেষ যোগ্যতা নেই।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অবিলম্বে বর্তমান গভর্নরকে অপসারণ করে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন বোর্ড গঠনের দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের আওতায় এনে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
লাস্টনিউজবিডি/জে আই